হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চালের দাম

ভরা মৌসুমে দিনাজপুরের হিলিতে বাড়তে শুরু করেছে সব চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে।

ভরা মৌসুমে দিনাজপুরের হিলিতে বাড়তে শুরু করেছে সব চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছে। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধভাবে মজুদ ঠেকাতে অভিযানের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে হিলি বাজারে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল ৫২ টাকা। এছাড়া আঠাশ জাতের চাল আগে ৫৬ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা। মিনিকেট চাল এক সপ্তাহ আগে ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন সেই চাল ৪ টাকা বেড়ে ৭২ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটা চাল ৫০ থেকে বেড়ে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, ‘মোটা চাল কয়েকদিন আগেও ৫০ টাকা কেজি দরে নিয়েছিলাম। সেই চাল এখন কিনতে হচ্ছে ৫৪ টাকায়। এভাবে যদি চালের দাম বাড়ে তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষ কীভাবে ভাত খাবে? ৫৪ টাকা কেজি দরে চাল কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’

দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কয়েকদিনের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা করে বেড়েছে। আগে যে টাকা দিয়ে ৫ কেজি চাল কিনতাম, এখন সেই পরিমাণ চাল কিনতে বাড়তি ২০-৩০ টাকা লাগছে। যেভাবে চালের দাম বাড়ছে, সেভাবে তো আমাদের রোজগার বাড়ছে না।’

কয়েকদিন আগেই ৭০ টাকা কেজি দরে মিনিকেট চাল কিনেছিলেন জয়নাল আবেদিন। গতকাল চাল কিনতে এসে দেখেন ৭২ টাকা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে রাত পোহালেই যদি চালের দাম বাড়ে, তাহলে আমাদের জন্য তো সমস্যা। যেভাবে চালের দাম বাড়ছে সেভাবে তো আমাদের আয় বাড়ছে না।’

সারাদিন ভ্যান চালিয়ে ৩০০-৪০০ টাকা আয় করেন আব্দুল খালেক। চাল কিনতেই পুরো টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাকি খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে তার।

এ ব্যাপারে হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘কেউ যেন অবৈধভাবে চাল মজুদ করতে না পারে, সেটি রোধে আমাদের টিম কাজ করছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

আরও